উইলিয়াম হ্যানা: টম এণ্ড জেরি এবং আরও অনেকে


উইলিয়াম হ্যানা


আজকের দিনে মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই এটা বলা যায় যে, ‘টম এণ্ড জেরি’ কার্টুন ছবিটি শুরু হওয়ার পর থেকে এর সম্পর্কে জানে না- এমন কোনো মানুষ নেই বললেই চলে। এই কার্টুন অনুষ্ঠানের চিরায়ত আবেদন পৃথিবীর সকল বয়সের, সকল শ্রেণীর নারী-পুরুষ কে সমানভাবে আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়েছে। এমন একটা অনুষ্ঠানের পক্ষে পুরোপুরি অর্থহীন ও অবান্তর কার্যকলাপ দেখানোর মাধ্যমে- একটিও সংলাপ ব্যবহার না করেই- এর দর্শকদের মোহাবিষ্ট করতে পারার বিষয়টি বরাবরই একটা বিস্ময় হয়ে রয়েছে! আর এই চমকপ্রদ বিষয়টি বাস্তবে সম্ভব করে তুলেছিলেন ‘হ্যানা-বারবারা’ নামক কার্টুনিস্ট জুটি।
উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ বারবারা পেশাগত ও সৃজনশীল কাজের ইতিহাসের সবচেয়ে আদর্শ জুটি তৈরি করেছিলেন। হ্যানা অ্যানিমেশন কাজের সময় ও অন্যান্য পরিচালনাগত বিষয়ের দায়িত্বে ছিলেন, আর বারবারা’র দায়িত্ব ছিল আঁকাআঁকি’র বিভাগ। তারা দুইজনে একত্রে অনেক স্বকীয় ও বিখ্যাত চরিত্র এবং গল্প তৈরি করেছেন যা পরবর্তীতে টেলিভিশনের অ্যানিমেশন জগতের পাথেয় হয়ে দাঁড়ায়।

প্রাথমিক জীবন 
 ১৯১০ সালের জুলাই মাসের ১৪ তারিখে নিউ মেক্সিকো’র মেলরোজে এ হ্যানা জন্মগ্রহণ করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস্ এ ২০০১ সালের মার্চের ২২ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রকৃত নাম উইলিয়াম ডেনবি হ্যানা। তার বাবা ছিলেন আইরিশ; গ্যাস, পানির নলের একজন মিস্ত্রী। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ক্যাম্পটন জুনিয়র কলেজ’ এ সাংবাদিকতা ও স্থাপত্যবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনার করার জন্য ভর্তি হন, কিন্তু ডিগ্রী শেষ করার আগেই কলেজ ছেড়ে দেন। এরপরে ১৯২৯ সালে তিনি ‘স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু এই চাকরিটা তার গন্তব্যস্থল ছিলনা এবং দেশজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা চলাকালে তিনি চাকরিচ্যুত হন; তবে সেজন্য তাকে অভাব-অনটনে পরতে হয়নি।
এরপরে তিনি ‘প্যাসিফিক আর্ট এণ্ড টাইটল্’ নামক একটি অ্যানিমেশন স্টুডিওতে কাজ ‍শুরু করেন। এটিই ছিল অ্যানিমেশন জগতে তার কিংবদন্তীতুল্য যাত্রার আরম্ভ, মানুষের মনে নিজের সৃজনশীল কাজের দ্বারা তার অমরত্ব লাভ করার আরম্ভ। এরপরে ১৯৩০ সালে ‘হারম্যান-আইসিং স্টুডিওস’ নামের আরেকটি কার্টুন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে ‘মেট্রো-গোল্ডউইন মেয়ার’ (এমজিএম) এর সাথে তার পেশাগত সম্পর্কের শুরু হয়। এমজিএম এই প্রতিষ্ঠানটিকে কিছু প্রসিদ্ধ কার্টুন ধারাবাহিক- লুনি টুনস্ ও মেরি মেলোডিস- নির্মাণ করার জন্য নিয়োগ করে।
এমজিএম ও বারবারা
হ্যানা একজন নিম্ম পদস্থ কর্মচারি হিসেবে ‘হারম্যান-আইসিং’ এ যোগদান করেন এবং শুরুতে তিনি বিভিন্ন ধরনের ছোটখাট কাজ করতেন। কিন্তু খুব শীঘ্রই তিনি গল্প রচনা বিভাগে নিয়োজিত হয়ে আঁকা ও রঙ করার কাজ করতে শুরু করেন; একই সাথে তিনি গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও কাজ করতে থাকেন। ‘টপ ক্যাট’ এবং ‘স্টপ দ্য পিজন’ নামের দু’টি কার্টুন এর জন্য তিনি থিম তথা ভাবনা সংগীত রচনা করেন। অ্যানিমেশন কাজের কারিগরি বিষয় যেমন একটি দৃশ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় ফ্রেমের সংখ্যা নির্ধারণ, প্রতিটি ফ্রেম ও দৃশ্যের জন্য সময় নির্ধারণ এবং এই সংক্রান্ত সকল কাজে হ্যানা বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯৩৭ সালে এমজিএম এর নিজস্ব অ্যানিমেশন বিভাগ চালু করলে হ্যানা সেখানে পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সেখানে মাত্র এক মাস কাজ করার পরেই তিনি, জোসেফ বারবারা’র সাথে তার জীবনের চিরস্থায়ী এবং কমিক জগতের সবচেয়ে বিখ্যাত পার্টনারশিপ স্থাপন করেন।

আমি কখনই ভাল শিল্পী ছিলাম না, কিন্তু জো (বারবারা) খুব দ্রুত ও অনায়াসেই মনের ভাব ও বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া স্কেচের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারত, আর এরকম দক্ষতা আমি আর কারও মাঝে দেখিনি।
- উইলিয়াম হ্যানা, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, হ্যানা-বারবারা

এমজিএম এ কাজ করার সময়ে হ্যানা লক্ষ্য করেন যে তার এক সহকর্মী, বারবারা, অত্যন্ত মেধাবী একজন আঁকিয়ে যিনি গল্পের সংলাপ অনুযায়ী ছবি আঁকায় বেশ দক্ষ। ঠিক এমনই কাউকে তার প্রয়োজন ছিল যে তার অ্যানিমেশন টাইমিং এর সাথে তাল মিলিয়ে ছবি আঁকতে পারে, যেন তারা একত্রে আকর্ষণীয় গল্প উপস্থাপন করতে পারেন। আর একেবারেই কালবিলম্ব না করে তারা জুটি বেঁধে কাজ করতে শুরু করলেন এবং দ্য ফ্লিন্টস্টোন্স, দ্য জেটসন্স, টম এণ্ড জেরি সহ আরও অনেক গুলি ধারাবাহিক কার্টুন তৈরি করলেন। 
imdb.com
তবে তাদের একত্রে প্রথম কাজ ছিল ১৯৪০ সালে নির্মিত ‘পুস গেটস দ্য বুট’- এটি সব বয়সের সকল দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভের পাশাপাশি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস্ এ একটি মনোয়নও পেয়ে যায়। এই ঘটনায় এই জুটির মেধা ও দক্ষতার প্রতি এমজিএম এর আস্থা ও আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিড়াল ও ইঁদুর নিয়ে তৈরি এই ধারার গল্প অব্যাহত রেখে আরও কার্টুন নির্মাণ করতে বলে। আর এরই ফলস্বরূপ পরবর্তী ১৫ বছর ধরে ‘টম এণ্ড জেরি’র নির্মাণ অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।

টম এণ্ড জেরি
১৯৩৯ সালে হ্যানা-বারবারা সর্বদা বিবাদে লিপ্ত একটি ইঁদুর ও একটি বিড়াল এর গল্প উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেন; তবে প্রাথমিকভাবে টম ও জেরি’র চরিত্রে একটি কুকুর ও একটি শেয়ালকে চিত্রায়নের কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী একটি বিড়াল ও একটি ইঁদুর কে নিয়েই ধারাবাহিকভাবে শুরু হয় এবং এই পরিকল্পনাটিই চিরতরের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। টম কে এখানে দেখানো হয়েছে একটি অত্যাচারী, মাস্তান চরিত্রের বিড়াল হিসেবে যে সর্বদা জেরি কে বন্দী করার ফন্দি আঁটতে থাকে; আর জেরি হল এমন একটি দু:সাহসী, জেদী ইঁদুর যে প্রতিবারই টম এর প্রতিটি পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়ে উল্টো টমকেই বিপদের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 
imdb.com
এক্ষেত্রে গল্পের পরিসর খুব বড় ছিল না, ‍কিন্তু এই সংকীর্ণ পরিসরেও হ্যানা-বারবারা অসামান্য সৃজনশীলতা ও সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে অল্প পরিসরেও কল্পনাপ্রসূত বিনোদনের কোনো সীমা নির্ধারিত থাকেনা। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে এই জুটি সবচেয়ে চমকপ্রদ যে বিষয়টি দেখিয়েছেন তা হল এই যে টম ও জেরি’র গল্প পুরোটাই ঘটনা ভিত্তিক, এখানে একটিও সংলাপ ছিলনা। তাদের চমকপ্রদ সৃজনশীলতা ও খুব সাধারণ উপস্থাপনায় গল্প বলার এই সমন্বয়ের কারণেই এই ধারাবাহিকটি আজও বিশ্বের সকল শ্রেণীর সকল মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছে। 
১৫ বছর ধরে প্রযোজক ফ্রেড কুইম্বি’র তত্ত্বাবধানে এই বিবাদে লিপ্ত ইঁদুর-বিড়াল জুটিকে কেন্দ্র করে ১০০ এরও বেশি স্বল্প দৈর্ঘ্যের কার্টুন ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকের নির্মাণ কাজের জন্য আরও ১২ টি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড মনোয়ন ও ১৯৫২ সালে নির্মিত ‘জোহান মাউস’ এর মত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের জন্য সাতটি অস্কার লাভ হয়। একই চরিত্র নিয়ে নির্মিত কোনো ধারাবাহিকের জন্য এটিই ছিল সর্ব্বোচ্চ সংখ্যক অস্কার বিজয়। শুধুমাত্র কার্টুনের মধ্যেই এর নির্মাণ সীমাবদ্ধ ছিলনা, একটি অনন্য সৃজনশীলতার মাধ্যমে অ্যানিমেশনের সাথে চলনশীল অভিনয়ের সমন্বয়ও এতে দেখানো হয়- ১৯৪৪ সালে নির্মিত ‘অ্যাঙ্কর অ্যাওয়েহ’ নামক চলচ্চিত্রে জেরি, জিন কেলী’র সাথে নাচে অংশগ্রহণ করে এবং ১৯৫৩ সালে নির্মিত ‘ডেঞ্জেরাস হোয়েন ওয়েট’ এ টম ও জেরি উভয়েই, এস্থার উইলিয়ামস্ এর সাথে একটি সাঁতারের দৃশ্যে অংশগ্রহণ করে।

হ্যানা-বারবারা প্রোডাকশনস্ 
boomerang-from-cartoon-ne
এমজিএম ১৯৫৭ সালে এর অ্যানিমেশন বিভাগটি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে অনিচ্ছা সত্বেও হ্যানা-বারবারা নিজস্ব উদ্যোগেই নিজেদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন; আর এরই ফলস্বরূপ ‘হ্যানা-বারবারা প্রোডাকশনস্’ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু টেলিভিশনের বাজেট তাদের প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট ছিলনা, তাই তারা বাধ্য হয়ে একটি নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন যার মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থের মধ্যেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যায়। বেশি সংখ্যক ফ্রেম ব্যবহারের মাধ্যমে চরিত্রগুলির চলাফেরাকে বিস্তারিতভাবে না দেখিয়ে, তারা ‘টেকনিকালার’ কার্টুন এর উদ্ভাবন করেন যেখানে কম সংখ্যক ফ্রেম ও বেশি সংখ্যক স্টক ফুটেজ এবং বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ ব্যবহারের মাধ্যমে গল্প উপস্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতিতে ১ মিনিটের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য যেখানে এমজিএম এ থাকা অবস্থায় তারা ১,০০০ টি হাতে আঁকা ছবির ফ্রেম ব্যবহার করতেন, এখন মাত্র ৩০০ টি ফ্রেমেই সে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল।
১৯৫৭ সালে নির্মিত ‘দ্য রাফ এণ্ড রেডি শো’ ছিল টেলিভিশনের জন্য এই জুটির নির্মিত প্রথম অনুষ্ঠান। ১৯৫৮ সালে তারা ‘হাকলবেরি হাউণ্ড’ নির্মাণ করেন এবং এটি ছিল ‘এমি’ বিজয়ী প্রথম অ্যানিমেটেডে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। ১৯৬০ সালে তারা গুহা যুগের মানুষের জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে ‘দ্য ফ্লিন্টস্টোনস্’ নামে টিভির বিখ্যাত ধারাবাহিক ‘দ্য হানিমুনার্স’ এর একটি ব্যাঙ্গাত্বক অনুকরণ তৈরি করেন। এটি ছিল আধা-ঘন্টা দীর্ঘ প্রথম অ্যানিমেটেড শো যা ছেলেবুড়ো সকলকেই সমানভাবে আকর্ষণ করেত সমর্থ হয়। ফ্রেড ফ্লিন্টস্টোন এর বারবার আওড়ানো সংলাপ ‘ইয়াবা ডাবা ডু’ খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কথোপকথনের অংশ হয়ে উঠে। এই ধারাবাহিকের মোট ১৬৬ টি পর্ব নির্মিত হয়। ১৯৬২ সালে ‘দ্য জেটসন্স’ এর যাত্রা শুরু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে ম্যাজিলা গোরিলা, টুশ টার্টল, ইয়োগি বিয়ার সহ আরও অনেক নতুন নতুন চরিত্রের অবতারণা করা হয়। 
১৯৬৮ সালে সিবিএস সহ সকল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ছোটদের সকালের অনুষ্ঠানগুলো নতুনরূপে সাজানোর পরিকল্পনা করে; আর এর ফলে হ্যানা-বারবারা প্রোডাকশনস্ এর অবস্থা এমন ছিল যে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি সপ্তাহে মোট ছয় ঘন্টার কার্টুন ও চলনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণ করে নেটওয়ার্কগুলিকে সরবরাহ করতে হত। নেটওয়ার্কগুলোর এই নতুন পরিকল্পনার কারণে পেনেলোপ পিটস্টপ, ওয়্যাকি রেসেস, ক্যাপ্টেন ক্যাভমেন, বানানা স্প্লিটস্ এর মত অনুষ্ঠান নির্মিত হয়। তবে এই পর্যায়ে নির্মিত সবচেয়ে সফল ধারাবাহিক কার্টুন ছিল ‘স্কুবি ডু’- যেখানে চারজন অনভিজ্ঞ কিশোর গোয়েন্দা ও তাদের সঙ্গী কুকুর কে কেন্দ্র করে গল্প নির্মিত হয়। এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা এতই বেশি ছিল যে, এমনকি ১৯৮০ এর দশকেও এর নতুন পর্বের নির্মাণ কাজ চলেছিল। ১৯৮২ সালে নির্মিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘দ্য স্মার্ফস’, যদিও জনপ্রিয়তার বিচারে এই ধারাবাহিকটি এর ‍পূর্বসুরীদের তুলনায় ততটা সফলতা পায়নি।
হ্যানা-বারবারা প্রোডাকশনস্ টেলিভিশনে প্রচারিত ১৫০ টি কার্টুন ধারাবাহিকের জন্য ৩,০০০ এরও বেশি আধা-ঘন্টার অনুষ্ঠান নির্মাণ করে। এমি ও সাতটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি আরও অনেক পুরস্কার লাভ করে, যার মধ্যে ১৯৮৮ সালে প্রাপ্ত ‘দ্য গভর্নার্স অ্যাওয়ার্ড অফ দ্য অ্যাকাডেমি অফ টেলিভিশন আর্টস্ এণ্ড সাইন্স’ অন্যতম। ১৯৯৬ সালে ওয়ার্নার ব্রাদার্স এই প্রতিষ্ঠানটির সকল স্বত্ত্ব কিনে নেয় এবং এর অধীনে তৈরি সকল কাজ ‘কার্টুন নেটওয়ার্ক’ ব্র্যাণ্ডের নামে প্রচার শুরু করে।

পরবর্তী জীবন 
dola.com
উইলিয়াম হ্যানা একজন হাসিখুশি, সাধারণ মানুষ ছিলেন। তিনি বরাবরই নতুন অ্যানিমেটরদের কাজ শেখাতে আগ্রহী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অ্যানিমেটরেরা তার কাছে চিঠি লিখে স্টুডিও পরিদর্শনের অনুমতি চাইত এবং তিনি তাদের সেই অনুমতি দিয়েও দিতেন। তারা যখন স্টুডিও পরিদর্শনে আসত, তখন তিনি তাদের নিজের তত্ত্বাবধানে কাজে নিয়োগ করতেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন নাবিক ছিলেন এবং প্রায়ই তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়ে নৌভ্রমণে যেতেন। তিনি একটি নাপিতের দোকানে গিয়ে গান গাইতে ভালবাসতেন এবং ১৯৮৯ সালে তিনি কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে সেখানে যেতে পারতেন না বলে আক্ষেপ করতেন।
তিনি তার সঙ্গী জোসেফ বারবারা’র সাথে দীর্ঘ ৬০ বছর একসাথে কাজ করেন। তিনি ১৯৩৬ সালে বিয়ে করেন। তার একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। উইলিয়াম হ্যানা তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোট আটটি এমি পুরস্কারে ভূষিত হন।


এই বিভাগে আরো আছে

হ্যানা-বারবারা 8893876239218456813

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

বৈশিষ্ট্যযুক্ত

বিশ্বসেরা ১০ কার্টুনিস্ট

শিল্পী রফিকুননবী সাধারণ মানুষের কাছে যতটা না তার ফাইন আর্টসের জন্য পরিচিত, তার চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় তার ‘টোকাই’ কার্টুন চরিত্রের জন্য। এ ...

-

  • ফেসবুকে অনুসরণ করুন

    আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- [email protected] এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item