জার্নি বাই লোকাল ট্রেন

রফিকুল ইসলাম সাগর  বিডি.টুনসম্যাগ.কম একরাতে বহু ঠেলা ঠেলি করে দশ বিশেক মানুষের চাপা খেয়ে অবশেষে ট্রেনে উঠতে সক্ষম হই। আরেকটু চাপা খাইলে...

রফিকুল ইসলাম সাগর 
বিডি.টুনসম্যাগ.কম
একরাতে বহু ঠেলা ঠেলি করে দশ বিশেক মানুষের চাপা খেয়ে অবশেষে ট্রেনে উঠতে সক্ষম হই। আরেকটু চাপা খাইলে মইরাই যাইতাম। মাগনা মাগনা কত চাপা খাইলাম। ট্রেনের ভিতরে প্রবেশ করতেই একজন পায়ে পারা দিয়ে দাড়িয়ে রইল। বললাম ভাই পা-টা সরান। লোকটি বলল আমার পা আমি জেনে মন চায় হেনে রাখমু আপনার কী? আমি বললাম আপনি আমার পায়ের উপর দাড়িয়ে আছেন। পা সরিয়ে সে বলল--হু ! তো কী হইছে? লোকাল ট্রেনে উঠলে পায়ে পারা লাগবই, এত ইয়ে থাকলে লোকাল ট্রেনে উঠছেন কে? আমি আর কিছু বললাম না। সেখান থেকে অন্যত্র সরে দাড়ালাম। এই অবস্থা দেখে মনির আমার উপর বিশাল ক্ষ্যাপা। বারবার তার রক্ত চক্ষু আমার দেখতে হচ্ছে কারণ এই লোকাল ট্রেনে চড়ার আইডিয়াটা আমার।
আমিও ঠিক বুঝতে পারিনি পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হবে। ট্রেন ভর্তি মানুষ আর মানুষ। একজনের মুখের সামনে আরেকজন। বারবার পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখি মোবাইল মানিব্যাগ ঠিক আছে তো। এরই মধ্যে একজন বুড়া বিড়ি জালিয়ে ধুয়া আমার মুখে ফুকতে থাকল। সেখান থেকেও সরে এলাম। ট্রেন চলছে.....

টঙ্গী ও পুবাইল স্টেশন অতিক্রম করে আড়িখোলা স্টেশনে ট্রেন থামল। ট্রেনের ভিতরে লাইট নেই, অনেক অন্ধকার তার সাথে মশার কামর তো আছেই। মানুষের চরম হইচই। স্টেশনেও অন্ধকার, কারেন্ট নেই। আরো কিছু মানুষ ট্রেনে উঠল। এবার কেউ কেউ বড় বড় টুকরি নিয়ে উঠল। টুকরি ভর্তি শাক-সবজি। কিছু বুড়ি ট্রেনের ফ্লোরে আরাম করে বসে পান চিবুচ্ছে যেন তার নিজের ঘর। একজন এসে বলল ভাই টিকেট আছে। আমি বললাম আছে।
-কই দেখান। পকেট থেকে টিকেট বের করে দেখালাম। আমার পাশের একজন বলল আমার টিকেট নাই। এই লন আমরা তিনজন পনের ট্যাহা। চেকার বলল কই যাইবেন। নরসিংদী।
-তিনজন পনের ট্যাহা হইব না। 
-আর ট্যাহা নাই বাজান। আমরা গরিব মানুষ। 
আপনারা টেকা থাকলেও কইবেন নাই বলে আরেজনের কাছে গেল চেকার। এভাবে যাদের টিকেট নেই যে যত টাকা দিচ্ছে কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্ক করে টাকা পকেটে ভরছে চেকার। আমি মনে মনে ভাবছিলাম টিকেট না কিনলেই তো ভালো হত, হুদাই টিকেট কিনলাম। আরেজনের সাথে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। লোকটির পাতিল ভর্তি মাছ। চেকার বলল তোমার ভাড়া দিলা মাছের ভাড়া কই? মাছ কী মাগনা যাইব?
আবার স্টেশনে থামল। আমরা নিচে নেমে দাড়ালাম। এক ঘন্টার আগে ছাড়বে না এটা নিশ্চিত। কারণ এতক্ষণ যাবত দেখছি স্টেশনে থামলেই একঘন্টা। ধরে নিলাম আমরা ভৈরব পৌছতে সকাল পেরিয়ে দুপুর হবে। একটি চায়ের দোকানে চা-পান করলাম। অনেকক্ষণ হলো ট্রেন ছাড়ছে না। বিপরীত দিক থেকে নাকি একটি আন্ত-নগর ট্রেন এই স্টেশন অতিক্রম করবে তারপর ছাড়বে। আমরা খুজতে থাকি কোন বগিতে মানুষ কম সেই বগিতে উঠব। কিন্তু সব বগিতে প্রায় একই অবস্থা। ট্রেন চালকের ইঞ্জিন বগির ভিতরেও অসংখ্য যাত্রী। এত যাত্রী দেখে ঠিক বুঝতে পারলাম না চালক কে। এরই মধ্যে একটি অন্ত-নগর ট্রেন স্টেশন অতিক্রম করল। এখন ট্রেন ছাড়বে। একটি বগিতে উঠলাম। এবার ঠিক দরজার সামনে দাড়ালাম। ভিতরে দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ কেউ ফ্লোরে শুয়ে কত আরাম করে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। 
দরজার যে পাশটায় হেলান দিয়ে আমি দাড়ালাম সেই পাশটায় টয়লেটের দরজা। একটু পর পর একজন আসে আর টয়লেটের ভিতরে যায়। দরজার ভিতরের লক ভাঙ্গা। ভিতর থেকে দরজা ধরে বসতে হয়। যারা প্রকীতির ডাকে সারা দিতে আসে আমাকে প্রশ্ন করে ভাই টয়লেটের ভিতরে কেউ আছে? আমি যেন টয়লেটের ইজারাদার। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে গেলাম। টয়লেটের ভিতর একজন ঢুকল আরেকজন এসে আমাকে প্রশ্ন করল ভাই টয়লেটে কেউ গেসে? 
রাগে আমি বললাম--'না দরজা জোরে ধাক্কা দেন'। 
আমার কথা মত লোকটি জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ফেলল। টয়লেটের ভিতরে থাকা লোকটি দাড়িয়ে গিয়ে বলল-- 'দুর মিয়া আপনেগো ল্যাগা ঠিক মত কামটাও করণ যায়না' বলে দরজা লাগিয়ে দিল। আমি সহ অনেকে এই দৃশ্য দেখে হাসি চেপে রাখতে পারলাম না। আমি লোকটিকে বললাম ভাই কিছু মনে কইরেন না টয়লেটের ভিতরে কেউ ছিল খেয়াল করিনি। 


এই বিভাগে আরো আছে

রম্য গল্প 7794536181323683195

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item