দশপৃষ্ঠা লিখে যে কাজ হয়না একটা কার্টুনে আরো বেশি কাজ হয় : অসীম চন্দ্র রায়

বাম থেকে-  অসীম চন্দ্র রায় ও টুনস ম্যাগ বাংলার সম্পাদক  তরুণ কার্টুনিস্ট অসীম চন্দ্র রায়। জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ সালে। ২০০৯ সালে ...

বাম থেকে- অসীম চন্দ্র রায় ও টুনস ম্যাগ বাংলার সম্পাদক 

তরুণ কার্টুনিস্ট অসীম চন্দ্র রায়। জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ সালে। ২০০৯ সালে ট্রান্সপরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন অংকন প্রতিযোগিতায় ক-গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। গতবছর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন ( আই সি সি আর) এর স্কলারশিপ নিয়ে রবীন্দ্র-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় অনার্সে পড়ার সুযোগ পেযেছেন। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়া এ তরুণের নবম শ্রেণিতে উঠার আগেও কার্টুন নিয়ে কাজ করার কোন ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে প্রথম আলো সহ আরো অনেক জাতীয় দৈনিকে কার্টুন আঁকছে। তার কার্টুনের জগতে আসা, কার্টুন নিয়ে ভাবনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহ নানান বিষয়ে বলা কথা টুনস ম্যাগের পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হল-
অসীম চন্দ্র রায়ের আঁকা
নাদিম : কার্টুনে আসার চিন্তা মাথায় কিভাবে ঢুকলো?
অসীম : তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, ২০০৭ সালের কথা (তার আগে কার্টুনে আসার কোন চিন্তা আমার ছিল না) টিআইবি কার্টুন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। আমাকে স্কুলের এক ম্যাডাম (কেকা মনি শিকদার) প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বলেন। কার্টুন কি এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের গঠনের বিকৃত রূপ হচ্ছে কার্টুন। আমি কার্টুন একে পাঠিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলাম। সেবছর আমি ক-বিভাগে সারাদেশে ৩য় হয়েছিলাম। পরের বছর ২য় এবং তার পরের বছর ২০০৯ সালে সারাদেশে চ্যাম্পিয়ন হই। এই ভাবেই....

নাদিম : আপনার ভারতের রবীন্দ্র-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্পর্কে কিছু বলবেন?
অসীম : ২০১২তে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় ভর্তি পরিক্ষা দিয়েছিলাম। কোচিং-এ আঁকা-আঁকিতে যারা আমার চেয়ে অর্ধেক পেয়েছে, তারা ভর্তি পরিক্ষায় ৮০% এর উপরে নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হল। আর আমি ড্রয়িং-এ ফেল করলাম। তখন মনে হয়েছে চারুকলায় কোন ঘাপলা আছে। পরে আর চারুকলা অনুষদে ভর্তি পরিক্ষা দিতে হয়নি, তার আগে রবীন্দ্র-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েগেছি। আমি যদি চারুকলায় চান্স পেতাম, তাহলে এখানে আবেদনই করতাম না।

নাদিম : উচ্চতর পড়ালেখা কোথায় করবেন? পড়ালেখা শেষে দেশে ফিরবেন?
অসীম : ইউরোপে করার চিন্তা আছে। পড়ালেখা শেষে অবশ্যই দেশে ফিরব, দেশের জন্য কাজ করব।

নাদিম : কার্টুন নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
অসীম : আমার মনে হয়, বাংলাদেশে কার্টুন সেক্টর এখনো অনেক দুর্বল। অনেকে ক্যারিকেচার কি তাও জানে না। ভবিষ্যতে রিয়ালিস্টিক ও ক্যারিকেচার এ দু'টো সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

নাদিম : আপনার দৃষ্টিতে কার্টুন কিভাবে মানুষের মাঝে কাজ করে? কার্টুন আঁকার ক্ষেত্রে মানুষের বিবেক বোধ কিভাবে কাজ করা উচিত?
অসীম : দশপৃষ্ঠা লিখে যে কাজ হয় না, তার চেয়ে একটা কার্টুন আরো বেশি কাজ দেয়। কার্টুন আঁকার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেকবোধ থাকা উচিত। মাথায় রাখতে হবে, এ কার্টুনের আউটপুট মানুষের কাছে যাবে তা বুঝে আঁকতে হবে। 

নাদিম : আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
অসীম : আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।
অসীম চন্দ্র রায়ের আঁকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের ছবির হাটে অসীম চন্দ্র রায়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- নাদিম মজিদ। সাথে ছিলেন টুনস ম্যাগ বাংলার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাগর।

এই বিভাগে আরো আছে

সাক্ষাৎকার 3492763149139921334

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • বিজ্ঞাপন

     vm

    আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item