বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বৈষম্য: অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক চিত্র কি সাফল্যের পথে বাধা?
বিডি.টুনসম্যাগ.কম ছবি : প্রতীকী বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনায় রাত ৭টার মধ্যে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধের নিয়ম করা হয়েছে। উদ্দেশ...
https://bd.toonsmag.com/2026/04/Editorial-0901.html
বিডি.টুনসম্যাগ.কম
![]() |
| ছবি : প্রতীকী |
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনায় রাত ৭টার মধ্যে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধের নিয়ম করা হয়েছে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার—জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয় করা। কিন্তু শুধুমাত্র রাজধানীর মহাখালীতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। যখন একটি মার্কেট নিয়ম মেনে সন্ধ্যা ৭টা বা ৮টায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই পাশের অলিগলিতে একই ধরনের দোকান খোলা থাকছে মধ্যরাত পর্যন্ত।
এই পরিস্থিতি কেবল সরকারি লক্ষ্যকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে না, বরং ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি করছে এক চরম বৈষম্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মার্কেটগুলো সরকারি নির্দেশনা মেনে সময়মতো বাতি নিভিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু মার্কেটের বাইরে চিত্রটা উল্টো। অলিগলির দোকানগুলো রাত ১২টা বা ১টা পর্যন্ত সচল থাকছে। এতে করে যারা নিয়ম মানছেন, তারা গ্রাহক হারাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, যারা নিয়ম ভাঙছেন, তারা বাড়তি সুবিধা ভোগ করছেন।
সরকার যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেয়, তখন সেটি সমগ্র দেশের জন্য কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু যদি একটি বড় অংশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার চালিয়ে যায়, তবে সাশ্রয়ের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জিত হয় না।
লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি: বড় অংশ খোলা থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা আগের মতোই থেকে যাচ্ছে।
অসম প্রতিযোগিতা: একই ক্যাটাগরির দোকান এক জায়গায় বন্ধ আর অন্য জায়গায় খোলা থাকায় ব্যবসায়িক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
শৃঙ্খলার অভাব: আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়ম মানার অনীহা তৈরি হতে পারে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুফল পেতে হলে 'বন্ধ মানে জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ'—এই নীতির কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
সমন্বিত তদারকি: তদারকি টিমকে শুধু মূল সড়কের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে অলিগলিতেও অভিযান চালাতে হবে।
কঠোর আইন প্রয়োগ: নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকান খোলা রাখলে কঠোর জরিমানা বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী নেতাদের ভূমিকা: স্থানীয় দোকান মালিক সমিতিগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে যাতে তারা নিজ নিজ এলাকার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেন।
জনসচেতনতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয় যে বিলাসিতা নয় বরং জাতীয় প্রয়োজন, তা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ তখনই সফল হবে যখন তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এক পক্ষ নিয়ম মেনে ত্যাগ স্বীকার করবে আর অন্য পক্ষ নিয়ম ভেঙে সুবিধা নেবে—এমনটা চলতে থাকলে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই মাঠ পর্যায়ে কঠোর ও সুষম তদারকি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।o

