নগরীর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ বোনাস: আনন্দ যখন অন্যের দ্বারে ভিক্ষা!
বিডি.টুনসম্যাগ.কম সবাই যখন নতুন পোশাক আর ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত, তখন আমাদের শহরের রাজপথ ঝাড়ু দেওয়া সেই মানুষগুলো কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে কাজ ...
https://bd.toonsmag.com/2026/03/12111.html
বিডি.টুনসম্যাগ.কম
সবাই যখন নতুন পোশাক আর ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত, তখন আমাদের শহরের রাজপথ ঝাড়ু দেওয়া সেই মানুষগুলো কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা আমাদের শহর পরিষ্কার রাখেন, বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সরিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, উৎসবের দিনেও তাদের পকেটে জোটে না কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ‘ঈদ বোনাস’।
উৎসব যখন তাদের জন্য অনিশ্চয়তা
একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার কারিগর হয়েও তারা উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা বোনাস না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে হাত পাতেন। যে হাত শহর পরিষ্কার রাখে, সেই হাতকে ঈদের দিনে ‘বকশিশ’ বা সাহায্যের জন্য প্রসারিত হতে দেখাটা আমাদের সমাজের এক চরম দৈন্যতা।
কেন এই বৈষম্য?
প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা: সিটি কর্পোরেশন বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে কাজ করলেও তাদের স্থায়ী নিয়োগ বা উৎসব ভাতার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।
অদৃশ্য কারিগর: আমরা তাদের কাজ দেখি, কিন্তু মানুষ হিসেবে তাদের মৌলিক অধিকারগুলো এড়িয়ে যাই।
মর্যাদার সংকট: বোনাস না পাওয়া এই মানুষগুলোকে রাস্তায় হাত পাততে বাধ্য করা তাদের আত্মসম্মানে আঘাত করার সমান।
আমাদের করণীয়
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা সবার মাঝে ছড়িয়ে যায়। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য কেবল দয়া বা বকশিশ নয়, বরং তাদের ন্যায্য পাওনা ও বোনাস নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং সমাজ—উভয় পক্ষেই দায়িত্ব।
উপসংহার: শহরের প্রতিটি কোণ যে মানুষগুলো উজ্জ্বল করে রাখেন, তাদের ঘরে যেন ঈদের আনন্দ অন্ধকার হয়ে না থাকে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উৎসব ভাতা নিশ্চিত করা হোক।

