একজন রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট একজন কলামিস্টের মতো : খলিল রহমান

বিডি.টুনসম্যাগ.কম কার্টুনিস্ট খলিল রহমান গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় রাজনৈতিক কার্টুন আঁকছেন এই স...

বিডি.টুনসম্যাগ.কম
কার্টুনিস্ট খলিল রহমান

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় রাজনৈতিক কার্টুন আঁকছেন এই সময়ের জনপ্রিয় তরুণ কার্টুনিস্ট খলিল রহমান। দেশের সমাজ ও রাজনীতির নানা অসঙ্গতি উঠে আসে তার কার্টুনে। তিনি একটি ঘটনার ভেতরের চিত্রটি তুলে আনেন তার কার্টুনের রেখায়। তার মতে কার্টুন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়নার মতো। 

বর্তমানে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় সমসাময়িক বিষয়ে খলিল রহমান-এর কার্টুন একটা বিশেষ আকর্ষণ। কার্টুন আঁকাআঁকিসহ নানান বিষয়ে টুনস ম্যাগ-কে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই কার্টুনিস্ট। সাক্ষাত্কারটি টুনস ম্যাগ পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হলো-
 
প্রথমেই কার্টুন নিয়ে প্রকাশিত আপনার বই সম্পর্কে কিছু বলুন- 
খলিল রহমান : আসলে অনেক দিন ধরেই কার্টুন আঁকছি। সব কার্টুন সংগ্রহে থাকে না। নিজের পছন্দের অনেক কার্টুন আমার সংগ্রহে নেই। সে সব কার্টুন সংগ্রহে আছে তা থেকে বাছাই করে স্থায়ীভাবে সংগ্রহে রাখার এটাই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে মনে হলো।  

আপনার আঁকাআঁকির শুরুটা কিভাবে?
খলিল রহমান : আঁকাআঁকির শুরুটা স্কুল জীবন থেকেই। যখন আমি ক্লাস এইটের ছাত্র তখন থেকেই বিভিন্ন পত্রিকার শিশু কিশোর পাতায় কার্টুন কমিকস পাঠাতাম। ছাপাও হতো। আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা একেবারেই প্রত্যন্ত একটা গ্রামে। সেই ছোট্ট গ্রাম থেকে যখন খবরের কাগজের পাতায় নিজের আঁকা কার্টুন দেখতাম তখন পৃথিবী জয় করার মতো আনন্দ পেতাম।
 
এতকিছু থাকতে কার্টুনিস্ট হওয়ার চিন্তা কিভাবে এলো? 
খলিল রহমান :  ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকিটা আমার নেশার মতো। তবে ছোটবেলায় কখনও ভাবিনি এটাই আমার পেশা হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে কী করব সেটাও কখনও ভাবিনি। ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর আমি ঢাকায় আসি। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত কার্টুন আঁকি। এভাবে আঁকতে আঁকতেই এক সময় নেশা আর পেশা এক হয়ে গেল। 
 
এ পর্যন্ত আপনার আঁকা কার্টুন সংখ্যা কতগুলো হবে? 
খলিল রহমান :  সঠিক সংখ্যাটা ঠিক বলতে পারব না। তবে রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সব মিলিয়ে হাজার খানেক হতে পারে।

জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আপনার রাজনৈতিক কার্টুন চোখে পড়ে! এছাড়া আপনি আর কোন ধরনের কার্টুন আঁকেন অথবা আঁকতে আপনার বেশি ভালো লাগে? 
খলিল রহমান :  আমি মূলত রাজনৈতিক কার্টুন করি। তবে শিশু-কিশোরদের জন্যেও বেশ কিছু কার্টুন এঁকেছি। এখন সময়ের অভাবে আঁকা হয় না।  তাছাড়া কেন জানি রাজনৈতিক কার্টুন আঁকতেই বেশি ভালো লাগে। তবে ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে।

কার্টুন নিয়ে আপনার মজার অভিজ্ঞতা? 
খলিল রহমান :  একবার পত্রিকার এক কর্তা ব্যক্তি আমাকে একটা কার্টুন দেখিয়ে বললেন, এই হলো কার্টুন! মাঝে মাঝে নেটে বিদেশী কার্টুনগুলো দেখো। ভালো ভালো আইডিয়া পাবে। তিনি যে কার্টুনটা দেখিয়ে এসব বলছিলেন ওই কার্টুনটি আমার আঁকা ছিল। ইরাক যুদ্ধে নিয়ে কলমে আঁকা একটা সাদাকালো কার্টুন। কার্টুনটি প্রকাশিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ওয়েবসাইটে।

আপনি কার দ্বারা কার্টুন আঁকায় অনুপ্রাণিত? 
খলিল রহমান :  ছোটবেলায় পত্রিকায় রফিকুন নবী ও শিশির ভট্টাচার্যের কার্টুনগুলো দেখতাম। খুব ভালো লাগতো। তাদের কার্টুন দেখে মনে হতো আমিও যদি কার্টুনিস্ট হতে পারতাম। বলা যায় তাদের কার্টুনগুলোই আমাকে কার্টুনিস্ট হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তবে যাদের হাত ধরে আমি সংবাদপত্রে এসেছি এবং যাদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় আমি পত্রিকায় কার্টুন আঁকার সুযোগ পেয়েছি, তারা হলেন দৈনিক ইনকিলাবের লুৎফুল খবীর, ফরিদী নুমান ও মেহেদী হাসান পলাশ। ঢাকায় এসে তাদেরকে আমি আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে পেয়েছিলাম। এবং তারাই আমাকে পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ পাতায় রাজনৈতিক কার্টুন আঁকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

কী ধরনের ঘটনা/মুহূর্ত আপনাকে আঁকতে অনুপ্রানিত করে? 
খলিল রহমান :  সব নিউজ বা সব ঘটনার তো আর কার্টুন হয় না। যে ঘটনাগুলো কার্টুনে উপস্থাপন করা যায় এ রকম যে কোনো ঘটনা বা খবর আমি কার্টুনের সাবজেক্ট হিসেবে বেছে নিই। তবে সব সময়ই রাজনৈতিক কার্টুন আঁকতে একটু বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

কার্টুন নিয়ে আপনার কোনো ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে কি? 
খলিল রহমান :  তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে কার্টুন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়নার মতো। আমি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের যে অসঙ্গতিগুলো দেখতে পাই, ঠিক সেটাই নিরপেক্ষভাবে কার্টুনে তুলে আনার চেষ্টা করি এবং করে যাব। 
সম্প্রতি প্রকাশিত খলিলের কার্টুন

নতুন যারা কার্টুন আঁকে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?
খলিল রহমান :  কার্টুনের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। রাজনৈতিক কার্টুন এর মধ্যে একটি। নতুনদের অনেকেই অন্যান্য শাখায় খুবই ভালো করছে। কিন্তু রাজনৈতিক কার্টুনে নতুনদেরকে খুব কম দেখি।

একজন কার্টুনিস্ট-এর কি কি গুন থাকা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন? 
খলিল রহমান :  রাজনৈতিক কার্টুনের ক্ষেত্রে আইডিয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট একজন কলামিস্টের মতো। একজন কলামিস্ট লিখে বিশ্লেষণ করেন আর একজন কার্টুনিস্ট এঁকে বিশ্লেষণ করেন। সুতরাং শুধু ড্রইংয়ে পারদর্শী হলেই কাউকে ভালো কার্টুনিস্ট বলা যায় না, বরং তিনি ভাল আর্টিস্ট, ইলাস্ট্রেটর বা ক্যারিক্যাচারিস্ট। একজন কার্টুনিস্টকে অনেক জানতে হয়। রাজনীতি সচেতন হতে হয়। একই সঙ্গে ড্রইংয়ে পারদর্শিতা ও হিউমার সেন্স থাকতে হয়। অর্থাৎ একসাথে এই সব গুণাবলীই থাকতে হবে একজন রাজনৈতিক বা এডিটরিয়াল কার্টুনিস্টের।

সমাজ পরিবর্তনে কার্টুন কতটুকু ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
খলিল রহমান :  শুধু সমাজ পরিবর্তনে নয়, একটি দেশের গণতান্ত্রিক বিকাশেও কার্টুন গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। দুর্নীতিগ্রস্থ সমাজ পরিবর্তনে ও আমাদের গণতন্ত্রকে আরও বিকশিত করতে কার্টুন একটা গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভ’মিকা রেখে চলেছে বলে আমি মনে করি।

কার্টুন ম্যাগাজিন টুনস ম্যাগ সম্পর্কে আপনার মতামত/পরামর্শ? 
খলিল রহমান :  যারা নিয়মিত সব পত্রপত্রিকা দেখতে পারেন না এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত কার্টুনগুলো মিস করছেন তারা টুনস ম্যাগ সাইটটি ভিজিট করলেই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত কার্টুনগুলো দেখতে পাবেন। টুনস ম্যাগ কার্টুন প্রেমীদের এই সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়াও কার্টুন বিষয়ে অনেক খবর ও তথ্য এখানে পাওয়া যায়, এটা খুব ভালো দিক। তবে আমাদের দেশে রম্যলেখার ইলাস্ট্রেশন, ক্যারিক্যাচার ও কার্টুন এগুলোকে একসাথে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।  পেইন্টিং, ইলাস্ট্রেশন, ক্যারিক্যাচার ও কার্টুন প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা ক্ষেত্র। যেহেতু এটা কার্টুন ম্যাগাজিন সেহেতু কার্টুনের ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়া দরকার।  এবং টুনস ম্যাগ যেন কার্টুন থেকে বেরিয়ে অন্য বিষয়ের দিকে চলে না যায়। টুনস ম্যাগের জন্য অনেক শুভকামনা।

সময় করে সাক্ষাত্কার দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!   
খলিল রহমান :  আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ।

এই বিভাগে আরো আছে

সাক্ষাৎকার 4702752483193040495

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item