শান্তির বার্তা বনাম অশান্ত বিশ্ব: এক বিষাদমাখা ঈদের প্রতীক্ষায়

বিডি.টুনসম্যাগ.কম



সম্পাদকীয়
আবারও আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে আনন্দের সওগাত। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বসন্তকালীন ঈদ কি বিশ্ববাসীর জন্য অবারিত আনন্দ বয়ে আনতে পারছে? যখন আমরা উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন জানালার ওপাশে তাকালে দেখা যায় এক অস্থির ও রক্তাক্ত পৃথিবী। একদিকে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ, অন্যদিকে যুদ্ধ আর সংঘাতের দাবানল—এই বৈপরীত্যের মধ্যেই আজ মুসলিম উম্মাহ পালন করতে যাচ্ছে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব।

ইরান: উৎসব যখন বেঁচে থাকার লড়াই
এবারের ঈদের আলোচনায় সবচেয়ে বেদনার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও ড্রোন হামলার ঘটনা দেশটিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরানের—সবখানেই এখন আনন্দের চেয়ে আতঙ্কের প্রতিধ্বনি বেশি। যেখানে শিশুদের হাতে নতুন জামা থাকার কথা ছিল, সেখানে আজ ধ্বংসস্তূপ আর চেকপোস্টের দীর্ঘ সারি।

ইরানি মুসলিমদের জন্য এবারের ঈদ কেবল উৎসব নয়, বরং এক চরম ধৈর্যের পরীক্ষা। যুদ্ধের দামামায় যখন আকাশ বাতাস ভারি, তখন সেখানকার সাধারণ মানুষ মসজিদে যাওয়ার আগেও একবার থমকে দাঁড়াচ্ছেন। বাজারের সেই চিরচেনা ভিড় নেই, নেই স্বজনদের নিয়ে নির্ভয়ে মেতে ওঠার পরিবেশ। ইরানের প্রতিটি ঘরে আজ দোয়ার মজলিশ বসেছে যেন এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে খুশির এই দিনটি উদযাপন করা যে কতটা কষ্টের, তা কেবল সেই জনপদের মানুষই অনুভব করতে পারছেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অস্থিরতা
কেবল ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতি আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ইউক্রেন থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তের চলমান অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। মুদ্রাস্ফীতি আর জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যখন নাভিশ্বাস, তখন ঈদের আনন্দ অনেকের কাছেই ফিকে হয়ে আসছে।

সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার আহ্বান
ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ ও সহমর্মিতা। নিজের আনন্দের পাশাপাশি অন্যের দুঃখকে অনুভব করা। এবারের ঈদে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—বিভেদের দেয়াল ভেঙে শান্তির পক্ষে দাঁড়ানো। ইরান বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যারা আজ যুদ্ধের কারণে নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত বা শোকার্ত, তাদের জন্য দোয়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।

ঈদের উৎসব যেন কেবল আড়ম্বর আর বিলাসিতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। যুদ্ধের বিভীষিকা মুছে গিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক শান্তির অমীয় সুধা। ইরানের সেই আতঙ্কিত শিশুটির মুখেও যেন এক চিলতে হাসি ফোটে—এই হোক আমাদের প্রার্থনা।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক!

এই বিভাগে আরো আছে

সম্পাদকীয় 8283744798736830781

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

বৈশিষ্ট্যযুক্ত

বিশ্বসেরা ১০ কার্টুনিস্ট

শিল্পী রফিকুননবী সাধারণ মানুষের কাছে যতটা না তার ফাইন আর্টসের জন্য পরিচিত, তার চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় তার ‘টোকাই’ কার্টুন চরিত্রের জন্য। এ ...

-

  • ফেসবুকে অনুসরণ করুন

    আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item