রোমিও জামান

বিশ্বজিৎ দাস বিডি.টুনসম্যাগ.কম রম্য গল্প এক. কাঁধে হাত পড়তেই ফিরে তাকালাম। ‘কী রে! ক্যামন আছিস দোলন?’ প্রথমে চিনতেই পারলাম ...

বিশ্বজিৎ দাস
বিডি.টুনসম্যাগ.কম

রম্য গল্প

এক.
কাঁধে হাত পড়তেই ফিরে তাকালাম।
‘কী রে! ক্যামন আছিস দোলন?’
প্রথমে চিনতেই পারলাম না।
‘আরে জামান! তুই!! দোস্ত ক্যামন আছিস?’ এক নিঃশ্বাসে চিনতে পেরে বললাম।
‘আছি ভাল। বিয়ে করেছিস? বাচ্চা কয়টা?’
‘রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প শুনবি। আয় এককাপ চা খেতে খেতে কথা বলি।’
এদিক ওদিক তাকালাম। দূরে একটা হোটেল চোখে পড়ল।
ঢুকতেই বেয়ারা বলল, ‘স্যার, দোতলায় যান। নিরিবিলি পাবেন।’
জামান বলল, ‘দোলন, চল উপরেই বসি। অনেকদিন পর দেখা হয়েছে। একটু নিরিবিলিতে কথা বলি।’
দোতলায় উঠে এদিক ওদিক তাকালাম।
‘আমার সাথে আয়।’ বলে জামান এগিয়ে গেল।
‘এখানেই বসি। আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপল ও।
তাকিয়ে দেখলাম, পাশের টেবিলে অপূর্ব এক সুন্দরী বসে আছে।

একা!
ব্যাটার খাসলত খারাপ। ভাবলাম।
ভার্সিটিতে পড়ার সময়ও এরকম ছিল। যেচে সবার সাথে আলাপ করত। বিশেষত মেয়েদের সাথে।
একদিন আমাকে বলেছিল, ‘চল ঐ মেয়েদের সাথে পরিচিত হয়ে আসি।’
‘ক্যামন করে?;
‘দ্যাখ না কী করি। তুই শুধু আমার সাথে সাথে থাক।’
একটুপরই মেয়েদের সামনে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দিল ও।
‘আপু আপনাদের সাথে পরিচিত হতে এলাম।’
মেয়েদের মধ্যে হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল।
‘আমি জামান। ডালিয়া।’ রংপুরের ডালিয়া তে ওর বাসা। পরিচিত হতে হতে এগিয়ে গেল ও। কয়েকজন ছেলেও বসেছিল মেয়েগুলোর সাথে। জামান ওদের সাথে হাত মেলাল। আর বলল, ‘জামান। ডালিয়া।’
গবার শেষে বসে থাকা ছেলেটা গম্ভীরভাবে বলল, ‘নিখিল। তাজমহল।’
‘এটা আবার ক্যামন টাইটেল?’ জামান জানতে চেয়েছিল।
‘ডালিয়া কি আপনার টাইটেল?’
‘না। আমার জন্মস্থান।’
‘তাজমহলও আমার জন্মস্থান।’
জামানের বেহাল দশা দেখে হেসে কুটি কুটি হয়েছিল মেয়েরা।

দুই.
হাসির শব্দে বর্তমানে ফিরে এলাম।
পাশের টেবিলের দিকে তাকালাম। মেয়েটি মোবাইলে হেসে হেসে কথা বলছে।
চোখ ফিরিয়ে জামানের সাথে কথা বলায় মনোযোগ দিতে চাইলাম।
জামান চুপ করে থাকার ইশারা করল। চোখে চোখে পাশের মেয়েটির ফোনের আলাপ শুনতে বলল।
অগত্যা শুনতে হল।
মেয়েটি বলল,‘ হ্যাঁ, আপনা আপনি ঠিকই ধরেছেন। ধুর্জটি লোকটাই বদ। হ্যাঁ হ্যাঁ ওর জন্যই তো সংসারে আগুন লেগেছে।’
কিছুক্ষণ চুপ থেকে কী যেন শুনল মেয়েটি।
তারপর বলল, ‘পুজা’র তো কোন দোষ নেই। মদনকে সে মনেপ্রাণেই ভালবাসে। মদনও ওকে ভালবাসে। কিন্তু ওদের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ধুর্জটি।
জামান আমাকে ইশারা করে জানাল- ও যাবে মেয়েটির সাথে যেচে আলাপ করতে।
কয়লার ময়লা যায় না ধুলে।
ভার্সিটিতে প্রায়ই দেখতাম একেকদিন একেকটা মেয়ের সাথে যেচে পড়ে আলাপ শুরু করে দিত। কোন কোন দিন আমরাও পাত্তা পেতাম না।
একদিন দেখেছিলাম একটা মেয়ের সাথে বসে গল্প করছে। আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। আমাকে দেখেও দেখল না।
মাথায় দুষ্টুবুদ্ধি খেলে গেল। ডাক দিয়ে বললাম, ‘জামান, তোর বউয়ের একটা চিঠি এসেছে।’
আমার চিৎকারে সে কোন ভ্রুক্ষেপই করল না।
ফিরে আসার সময় আবার চিৎকার করে ডেকে বললাম, ‘এ্যাই জামান, গ্রাম থেকে তোর বউয়ের চিঠি এসেছে।’
রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আমাকে বেশ কয়েকটা গালি দিয়েছিল ও। একটু পরে ঘুরে দেখেছিল, সঙ্গী মেয়েটি ঘটনা সত্যি মনে করে ওকে ছেড়ে চলে গেছে।
পরে দুঃখ করে জামান আমাকে বলেছিল, ‘দিলি তো আমার সাতাত্তর নম্বর প্রেমটা ভেঙ্গে। তোর জন্যই দই জমতে জমতে জমল না।’
এরপর থেকে দেখা হলেই আমি ওকে বলতাম,‘কী রে, তোর দই কি জমল?’

তিন.
‘জমিয়ে আসব না কি?’ ফিসফিস করে জানতে চাইল জামান।
‘এই বয়সে?’ নীরস গলায় বললাম।
‘আরে বয়স। প্রেমে পড়ার জন্য বয়স লাগে না । আমি তো এখনো কয়েকজনের সঙ্গে প্রেম করি।’
‘আর বউ?’
‘বউ আছে। থাকবে। বউ তো পালিয়ে যাবে না। কিন্তু প্রেমময় এ পৃথিবীতে কে প্রেমহীন থাকতে চায় বল। তুই শুধু বসে বসে দ্যাখ মেয়েটিকে আমি কী করে পটাই। পটাতে চাইলে শনিবার হোক মঙ্গলবার হোক মেয়ে পটবেই- জানিস এই মহান বাক্যটি কে বলেছে?’
‘না।’ নীরসভাবে বললাম। মোটেও ভাল লাগছে না আমার এসব।
‘প্রফেসর ইমরান হাশমি।’
‘এ আবার কোন প্রফেসর?’ জানতে চাইলাম।
হো হো করে হেসে উঠল জামান।
‘বাদ দে। এখন দ্যাখ মেয়েটিকে ক্যামন করে পটাই। চুপচাপ মেয়েটির কথা শুনে নিই আগে।’
মেয়েটি ফোনে কথা বলেই চলেছে, ‘জানেন আপা’ পুজার সংসারে যদি একটা বাচ্চা থাকত তাহলে ধুর্জটির আজ এত সাহস হত না। দ্যাখেন আপা, সবাই বুঝতে পারছে ধুর্জটি মদন-পুজার সংসারে আগুন লাগাচ্ছে। তবু কেউ কিছু বলছে না। ধুর্জটির সাহস দ্যাখেন! কোনকিছু’র তোয়াক্কাই করে না। আমি তো পুজা-মদনের সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত।’
‘এক্সকিউজমি। আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?’ মেয়েটির সামনে গিয়ে দাঁড়াল জামান।
‘বলুন?’
‘আমি জামান। এডভোকেট। আমি আপনাকে পুজা-মদনের সংসার বাঁচানোর দারুণ বুদ্ধি দিতে পারি।’ নায়কের মত করে বলল ও।
‘তাই। বলুন কী বুদ্ধি?’ তাচ্ছিল্যভরে বলল মেয়েটি।
‘আমি পুজাদেরকে কম খরচে আইনী সহায়তা পাইয়ে দিতে পারি। ধুর্জটিকে আইনের হাতে তুলে দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- শাস্তি প্রদান করাতে পারি।’
‘ও তাই। আপনি তো দারুণ এডভোকেট।’
‘বসতে পারি।’ হেসে জানতে চাইল জামান।
‘না। আপনি জানেন আমি কার সাথে কী নিয়ে গল্প করছিলাম?’ মেয়েটি জানতে চাইল।
‘হ্যাঁ।’ হাসিমুখে বলল জামান।
‘না। জানেন না। আমি আমার এক সিনিয়র বান্ধবী মৌ’য়ের সাথে কথা বলছিলাম। কী নিয়ে জানেন, একটু দম নিল মেয়েটি, হিন্দি সিরিয়াল ‘জাজবা তেরে পেয়ার কী’ সিরিয়াল নিয়ে। এবার বুঝেছেন?’



বিশ্বজিৎ দাস
সহকারী অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান
দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর।

এই বিভাগে আরো আছে

রম্য গল্প 8539075720708564967

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • বিজ্ঞাপন

     vm

    আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item