মরে যাওয়ার স্বপ্নের ফুল

আশিক বিন রহিম বিডি.টুনসম্যাগ.কম এক. অনেক দিন পর আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম। গতকাল রাতটা যন্ত্রনায় পাড় করেছি। সে যন্ত্রনা অবশ্য কোন...

আশিক বিন রহিম
বিডি.টুনসম্যাগ.কম

এক.
অনেক দিন পর আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম। গতকাল রাতটা যন্ত্রনায় পাড় করেছি। সে যন্ত্রনা অবশ্য কোন হতাশার পাহাড় কাটা নয়, ছিল পাওয়ার ব্যাকুলতা, একটি প্রত্যাশার প্রভাত দেখার আজন্ম আকক্সক্ষা। আজ ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার। হৃদয় ক্যাম্পাসে কল্পনার তুলিতে আঁকা প্রেয়সির মুখচ্ছবি সম্মুখে উদয় হবে। কেমন দেখতে হবে সে মানুষটি? তার চোখ কি ডাগর কালো বনলতার মতো হবে। ঠোঁটে কি হাসি থাকবে মোনালিসাময়? আচ্ছা ওর চুল যদি দিঘল কালো না হয়? না - তা হতে পারে না। শোভা আমায় বলেছিল। ওর চুল লম্বা আর কালো। তবে ওর হাসিটা দারুণ হবে হয়তো। কারণ ওর কন্ঠটা অনেক মিষ্টি। আর কথা বলে গুছিয়ে। ঠিক এমনি একজন জীবন সঙ্গীর অপেক্ষায় প্রহর গুনেছিলাম পার হওয়া যৌবনের প্রতিটা মুহুর্ত। আচ্ছা আমি যাকে ভেবে এতটা উচ্ছ্বাসিত বিশ্ব জয়ের সুখে উল্লাসিত সে মানুষি দেবী যদি আমাকে পছন্দ না করে, কে যেন পিছন থেকে মাথায় প্রচন্ড আঘাত করলো। যন্ত্রনা অনুভব করলাম। চেতন ফিরাতে মায়ের কন্ঠে চা খাওয়ার পয়গাম ভেসে এলো রান্না ঘর থেকে। চা হয়ে গেছে....। একটু বস। আমার ইচ্ছাতেই মা আজ লাল চা তৈরি করেছে। মাকে বলেছিলাম সাথে যেন একটু আদা ও তেজপাতা দেয়। লাল চা খেলে মাথা ব্যাথা কমে যায়। আমার ডাক্তারি পড়া না জানা মায়ের অলিখিত প্রেসক্রিপশনের মাথা ব্যাথা এই ঔষুধটা মা প্রায় আমাকে দিতেন। আর অবাক করা বিষয় তাতে কার্যকারীতাও পেতাম ১০০%। অনিশ্চা সত্ত্বেও চা-টা দ্রুত শেষ করে প্রস্তুত হয়ে নিলাম। কি পড়বো তা গতকাল রাতেই ঠিক করে রেখেছি বলে ঝামেলা পোহাতে হয় নি। কালো জিন্স পেন্ট আর নীল স্টেপ শার্ট। গায়ে সামান্য পারফিউম স্প্রে করে নিলাম। মা যেন কেমন আড় চোখে বার কয়েক উকি মেরে তাকালেন, কিছু বলেও বললেন না। বারান্দার বাহিরে পা রাখতেই চোখ পড়লো গোলাপ গাছটার দিকে। চারটা গোলাপ ফুটে আছে। দু’টি গোলাপ ছিড়ে হাতে নিলাম। অনেকটা অবাক করার বিষয় গোলাপ ছেড়াতো দূরের কথা আমার গাছের একটা পাতাও কেউ ছিড়লে সেদিন আমি পুরো বাড়ি মাথায় তুলে রাখি। অথচ আজ সেই আমিই কি না দু-দুটি গোলাম ছিড়ে ফেললাম অনায়াসে! খুব আনন্দ চিত্তে লাফাতে লাফাতে রিক্সা চেপে বসলাম। হাত ঘড়ির কাটা ৯টা ছুঁই ছুঁই। শোভাদের আসতে এখনো এক ঘন্টা বাকি। মোবাইলে রিংটন বেজে উঠলো। আননোন নাম্বার। রিসিভ বাটন চাপতেই ওপাশ থেকে আরিফের কাদোস্বর ভেসে আসলো। আশিক তুই এক ঘন্টার মধ্যেই প্রিমিয়ার হসপিটালে চলে আয়। তোর ভাবীকে রক্ত দিতে হবে। হয়তো ও আর বাঁচবে না। আমি আরিফকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম, কেন কি হয়েছে...? ওর ডেলিভারি হয়েছে সকালে। বাচ্চাটা মরা হয়েছে। হয়তো ও আর বাঁচবে না। আরিফ কান্না কন্ঠে পুনরায় উত্তর দিয়ে ফোনটা কেটে দিলো। আমি মুহুর্তেই সিদ্ধান্ত পাল্টে রিক্সা প্রিমিয়ার হাসপাতালের দিকে নিয়ে যেতে বললাম। প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আমি হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। আরিফ আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। বউকে কতটা ভালোবাসলে স্বামীর চোখে জল গড়ায় তা পাঠক নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আরিফ নন্দীতাকে খুব ভালোবাসতো তা জানতাম, তবে এতটা ভালোবাসতো তা জানা ছিল না। অথচ নন্দীতার সাথে ওর বিয়েটা হয়েছে বাবা-মার পছন্দেই। ভালোবাসা যে ঈশ্বর প্রদত্ত তার প্রমান আরো একবার পেলাম। বিয়ের আগে নন্দীতাকে ও কখনো দেখেনি। অথচ তার জন্য কি না আরিফের কৃপনতাহীন দু’চোখ অবিরাম জল ফেলছে। আমাকে বলতে লাগলো মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছিল। দেখতে একদম নন্দীতার মতই। আমি আরিফকে থামিয়ে দিয়ে বললাম শোন, জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে এ সবই স্রষ্টার নিজস্ব ইশারায় হয়। হয়তো ওর ভাগ্য খাতায় এমনই লিখা ছিল যে, ও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে। কেঁদে আর কি লাভ বল। ফুল ঝরে গেছে বলে গাছটাকে তো আর মরতে দেয়া যায় না? তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর যদি গাছ বাঁচে তো ইনশাল্লাহ একদিন তাতে ফুল ফুটবেই। আমরা প্যাথলজি বিভাগে চলে এলাম। ডাক্তারকে বললাম, আমি ব্লাড দিতে চাই। ডাক্তার বললো কত দিন আগে ব্লাড দিয়েছেন আমি বললাম ২ মাস ৫ দিন। ডাক্তার বলল, সরি ভাই ৩ মাস পার না হলে আপনি আর ব্লাড দিতে পারবেন না। আপনার ব্লাডে হিমোগ্লোফিন কম পাওয়া যাবে। তাতে রোগীর কোন লাভ হবে না। তাছাড়া আপনিও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আমি আরিফের মাথায় হাত রেখে অস্থির না হতে ইশারা করলাম। এক বড় ভাইকে ফোন দিলাম। তার ব্লাড গ্রুপ ও পজেটিভ। তিনি আমায় আশস্ত করলেন আমি এখনই আসছি। তুই কোন চিন্তা করিস না। ফোন কেটে দিয়ে পুনরায় ফোন দিলাম লেখক বন্ধু রফিকুজ্জামান রনিকে। সেও আশ্বস্ত করলো। ১০ মিনিটের মধ্যেই চলে আসবে। এরি মধ্যে আরিফের ছোট ভাই এক ব্যাগ ব্লাড দিয়েছে। কর্তব্যরত এক ডাক্তার শাহাদাত আমার বাল্যকালের বন্ধু। সে আমাকে আশ্বস্ত করলো যে কোন সহযোগিতা লাগে আমাকে বলিস। বিপদে কারো পাশে দাড়াতে পারলে আমি তৃপ্ততা পাই। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ রুমে গিয়ে প্লাস্টিকের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলাম। আরিফ একবার মিথুনের মুখটা দেখতে যায়, আবার সিড়ি বেয়ে ৩ তলা উঠে বউটাকে দেখতে যায় জ্ঞান ফিরেছে কি না। আমি দেখছি। মৃত সন্তানের বাবা হওয়া এক পিতার সন্তানের প্রতি কি মায়া। ভালোবাসার ঘর কুটুমের জন্য কি অগাধ টান। মোবাইলের রিংটন বেজে উঠলো। রিসিভ কলটি শিউলি বলে উঠলো কি-রে তুই কই..। আমরা ১০ মিনিটের মধ্যেই শপথ চত্ত্বরে পৌছে যাবো। একটু তাড়াতাড়ি আয় দেরি করিস না কিন্তু। ঠিক আছে আমি আসছি বলে ফোনটা কেটে দিলাম। ঘড়ির কাটার দিকে তাকাতেই চোখ কপালে উঠা উপক্রম। ১১টা ২৬ মিনিট। আবারো প্রমান হলো অপেক্ষা চিনে না সময়ের স্রোত। আরিফকে বললাম দোস্ত আমি তাহলে আসি। রনিরা আসছে। ব্লাড রাখলে টেনে রাখিস। আর কোন সমস্যা হলে জানাস, আমার একটু কাজ আছে, ঘন্টা খানিক পরই আবার চলে আসবো।

দুই.
আমি শপথ চত্ত্বরের কাছে বসে অপেক্ষা করছি। শিউলি ফোন দিলো। আমরা মার্কেটের ভিতর। দাড়াও আসছি বলে ফোন কেটে মার্কেটের ভিতর পা বাড়ালাম। দূর থেকে দেখতে পেলাম শিউলি  একটি স্টলের ভিতর দাড়িয়ে আছে। সাথে মিষ্টি একটি মেয়ে। শ্যাম বরণ চোখ, কালো দীঘল চুল চোখে সাদা সানগ্লাস। কালো জিন্স পেন্টের সাথে পিংক কালার শর্ট ফ্রগ পড়েছে। আমার বুঝতে বাকি রইল না এই সেই শোভা। যাকে ৮ দিনের ফোনালাপে অন্ধের মতো ভালোবেসেছি। স্বস্থির একটি নিঃশ্বাস ফেলে বন্ধু শিউলীকে অজান্তে থ্যাংকস জানালাম। ভালোবাসার মানুষকে প্রথম সাক্ষাতে কি বলতে হয় জানা নাই। তাই কোন সৌজন্যতা ছাড়াই ওর সামনে গিয়ে ৩২টি দাত প্রদর্শন করলাম সাহসের চিত্তে। শিউলীও তার প্রতিদান দিলো। বোরকা পড়া ছিল তাই ওর ৩২ দাতের প্রদর্শন আমার দেখা হয়নি। শিউলী বললো, চল কোথাও বসি। লাজুকতা খুড়িয়ে খুইয়ে একটা অটোরিক্রা ডাকলাম, শিউলির প্রশ্ন কোথায় যাবি মোহনায় ?....। হ্যা....। আমরা মোহনায় পৌছে গেলাম । অটো থেকে নামতে শোভার একটু সমস্যা হল , আমি বুজতে পারলাম ওর পায়ে সমস্যা আছে । শিউলির সাহায্যে নিয়ে শোভা  অট্রো থেকে নামলো, তারপর শিউলির হাতে হাত রেখে সামনে পা বাড়াল। আমরা কংকিটের একটা টেবিলে বসলাম। শিউলি আমার একমাত্র মেয়ে বন্ধু । একদিন মজা করে শিউলিকে বলে ছিলাম দোস্ত আমার জন্য একটা মিষ্টি মেয়ে দেখিস, একটা প্রেম করতে খুব ইচ্ছে । আর সেই কথার রেস ধরেই শিউলি ওর খালাতো বোন শোভাকে আমার কথা বলে । শোভার সাথে আমায় কথা বলিয়ে দেয় । মত্র ১০ দিনের ফোনালাপ,  আমরা দুজনকে মন আদান-প্রদানে সম্মত হলাম। ফোনালাপের ২দিন পর শোভা আমায় জানায় ওর ডান পায়ে সামান্ন সমস্যা আছে, হাটতে কিছুটা অসুবিধা হয় আর এও বলেছিল যে আপনি আমায় ভুলে যান আমার মত একটা খোরা মেয়েকে জীবন সঙ্গি করলে অনেক পস্তাতে হবে। আমি ভাগ্যকে মেনে নিয়ে সাথে সাথেই সলিউসেন দিয়ে বললাম চিন্ত করোনা আমারতো দ’টো পা-ই মহান আল্লাহ সুস্থ রেখেছেন, আমার পায়ে ভরকরে বাকিটা জীবন পারি দিতে কি তোমার কোন অসুবিধা হবে? শোভা আমার কথায় খুশি হয়ে আমাকে আরো বেশি ভালবেসে ফেললো। সুন্দরকে ভালবাসি বলেই কালো অদেখা কালো মেয়েটাকে বেস মনে ধরলো । কিছুক্ষন নিশ্চুপ ছিলাম কারো মুখেই রা-নেই । শিউলি এবার নিরবতা ভেঙ্গে দিয়ে বললো....দেখ তোদের পরিচয়টা মোবাইলে আর সেই পরিচয়ের চারাগাছটা কতটা ডারপাল ছরিয়েছে তা জানিনা এখন তোরা দু’জন মুখোমুখি তাই বলছি দু’জন দু’জনকে ভালোকরে পড়ে নে আর শোভা তোকে মিথ্যে বলেছে ওর পায়ে কোনই সমস্যা নেই ও তোকে একটু পরিক্ষা করে ছিল আমার কথার সত্যতা জাচাই করার জন্য। আমি চাই কেউ কাউকে যেন না ঠকায়, আর আমি ও যেন কাউকে না ঠকাই। কারণ শোভা আমার ছোট বোন হলেও ও আমার ভাল বন্ধুও বটে, আর তোকে আমি অত্যান্ত বিশ্বাস করি, ভলো জানি। আমি চাই তোধের সম্পর্কের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্যটা আরো গাঢ় হোক। শিউলি ভাল কবিতা লিখে তাই কথা বেস সুন্দর করেই বলে। আমি শিউলির কাছে অনুুমতি চাইলাম শোভার সাথে একা কিছু কথা বলার । শিউলি সাড়া দিল । কয়েক মিনিটের একান্ত আলাপে যতটুকু জানতে পারলাম শোভা তার কাটিপতি বাবার এমাত্র মেয়ে, আমাকে ওর খুব পছন্দ হয়েছে। আমরা চটপটির দোকান থেকে ফুঁচকা চিবিয়ে গ্রামিন মেলায় পুতুল নাচ দেখতে এলাম। শোভা আর আমি পাশাপাশি বসা, ওর নিস্পাপ চোখে চেয়ে প্রশ্ন করলাম.... ঢাকা জাওয়ার পর ভুলে যাবেনাতো ?......সেটা আর সম্ভব নয় শোভা আল্পোস্বরে উক্তর দেয়। আমি আবার প্রশ্ন করি প্রতিদিন ফোন দিবেতো?.......ও এবার একটা দৃর্ঘশ্বাস ছেরে উক্তর দেয় ভেবে দেখবো! আমি মলিন কন্ঠে তাকাই ওর পানে শোভা মুচকি হাসি উপহার দেয়। ঘন্টার কাটা ৫টার ঘরে শিউরি চলে যাওয়ার তাগিদ দিল। আমি বললাম কিছুটা পথকি এগিয়ে দিব ? না তোকে আর ষ্ট করতে হবেনা, আমরা যেতে পারবো ভালো থাকিস আর নিজের প্রতি খেয়াল রাখিস.. শিউলির চটচলদি উক্তর সামনে পা বাড়াল । আমি হৃদয়ে দারুন পিড়া আনুভব করলাম খুব সম্ভব হৃদয়ে রক্তক্ষরন হচ্ছে। জিবনের প্রথম পাওয়া এমন মধুর ব্যদনয় ক’ফোটা জল দু’চোখে গড়াতে চাইলো, আমার দু’হাতের উল্টো পিঠের অবরোধে পরাজয় হলো নোনা জলের। শিউলি একবার পেছন ফিরে তাকালো, বিদায় ক্ষনে আমার মলিন মুখটা দেখে সান্তনা সরুপ বা’হাতে টা-টা দিল।

তিন.
গতকাল রাতটা ঘুমোতে পারিনি। আস্থিরতার পুরো রাতটা পার করেছি সেগুন কাঠের চেয়ার টায় বসেই । শরৎচন্দ আর ফাল্গুনি মুখপদ্যায়ে তৃষ্ণা মেটাতে না পেরে হাতে নিয়েছিলাম হুমায়ুনের হিমুর মধ্য-দুপুর সারা রাতে মাত্র ৩১পৃষ্টায় চোখ বুলাতে পেরেছি। শিউলিকে ফোন দিয়েছিলাম বেস কয়েকবার ও রিসিব করলোনা, আমি বেস চিন্তিত হয়ে পরলাম। সকাল ১০টার দিকে একটা ফোন এলো আননোন নাম্বার ওপাশ থেকে শিউলির কন্ঠ.. আমি শিউলি। কেমন আছিস? রাতে ফোন করিসনি কেন? কিছুকি হয়েছে? আচ্ছা শোভা কেমন আছে.....? ওপাশ থেকে বাধা না পেয়ে এক নাগারে কথা গুলো বলতে লাগলাম শিউকে নিশ্চুপ দেখে আমি আবারো প্রশ্ন করলাম কিরে কথা বলছিসনা যে কিহয়েছে ?। এবার ওর কন্ঠো থেকে কথা এলো.. আফছার তুই যে আমার শুদু একজন ভাল বন্ধু তা কিন্তু নয় আমি তোকে আমার আপন ভাইয়ের মতই জানি, আমি চাই তুই আমার সাথে সারা জীবন সম্পর্ক রাখবি, কোন কারনে যেন আমাদের সম্পর্কটা ভেঙ্গে না যায়। আচ্ছা কি হয়েছে খুলেতো বলবি ? আমি শিউলিকে থামিয়ে দিয়ে চটচলধি প্রশ্ন করি। শোভা আর তোর সাথে কথা বলবে না, দেখ আমার কিছুই করার নেই, অনেক বুজিয়েছি ওকে, ভালোবাসার জন্য তো-আর কাউকে জোর করা যায়না ??....... দেখ মন খারাপ করিস না আফসার, যে যাবার সে যাবেই তাকে আটকে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে লাভ নেই, আমি দোয়াকরি ওর চেয়ে আরো ভাল একটা মেয়ে যেন তোর জীবনে আসে। আমায় হৃদয়ে অগ্নিকান্ডের ধোয়া শিউলির কন্ঠে... শিউলিকে তাই সন্তনা দিয়ে বললাম, আমায় নিয়ে তুই চিন্তা করিসনা আফসার একটু আন্যরকম... আমার কিছুই হবেনা বলে ফোনটা কেঠে দিলাম। এবার লোনা জলের কাছে পরাজিত হলাম অনায়সেই, লোনাজল তাই প্রণভরে আমায় ভিজিয়ে দিল। আমি গরিব ঘরের ছেলে মজা করে এই মিথ্যে কথাটা না বললে হয়তো কোটিপতি বাবার একমাত্র মেয়ের সাথে আমার ভালোবাসার সম্পর্কটা আরো কিছুদিন স্থায়ি হতো....

এই বিভাগে আরো আছে

গল্প 8093413236872087152

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item