চাইল্ডশেডিং

বিশ্বজিৎ দাস বিডি.টুনসম্যাগ.কম রম্য গল্প পরিচয় পর্ব কোন কাজ খুঁজে পাচ্ছিল না অভি। খালাত বোন নীলা’র বিয়েতে ঢাকা থেকে আজই বাড়িত...

বিশ্বজিৎ দাস
বিডি.টুনসম্যাগ.কম

রম্য গল্প

পরিচয় পর্ব

কোন কাজ খুঁজে পাচ্ছিল না অভি।
খালাত বোন নীলা’র বিয়েতে ঢাকা থেকে আজই বাড়িতে এসেছে ও।
বিয়ে বাড়িতে সবাই কোন না কোন কাজে ব্যস্ত। শুধু অভি এক জায়গায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। কেউ ওকে কিছু করতেও বলছে না। এ এক আজব পরিস্থিতি! অনেকদিন বাইরে থেকে বাসায় ফিরলে কেমন যেন পর পর আচরণ করে সবাই।

‘অভি, এখানে কী করছিস?’
‘কিছু না খালু? এমনিতেই দাঁড়িয়ে আছি।’
‘যা তো বাবা, দোতলার ভাঁড়ার ঘরে মিষ্টি রাখা আছে। এক হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে আয়।’
খুশিই হল অভি।

যাক্ একটা কাজ পাওয়া গেল। 
দোতলায় উঠে ভাঁড়ার ঘরের দিকে এগিয়ে যেতেই দপ করে বাতি নিভে গেল।
কারেন্ট চলে গেছে!
অসুবিধা নেই- এ বাড়ির সবকিছুই ওর নখদর্পণে। ভাঁড়ার ঘরের দরজাটা ভেড়ানো ছিল। পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করল ও। মোবাইলের আলোয় খুঁজতে শুরু করল মিষ্টির হাঁড়ি। হঠাৎ কোন কিছু বোঝার আগেই যে যেন ওকে ধাক্কা দিল। সাথে সাথে চিৎকার করে উঠল একটা মেয়ে কণ্ঠ, ‘চোর চোর ...।’

অভি প্রতিবাদ করবে কী উপুড় হয়ে ও পড়েছে মিষ্টির হাঁড়িগুলোর উপর। চোখে মুখে মিষ্টি আর রসে মাখামাখি অবস্থা! ধুপধাপ শব্দ শোনা গেল। অনেকজন একসাথে এসে ভাঁড়ার ঘরে ঢুকল। জেনারেটরের কল্যাণে একটু পরই বিদ্যুৎ চলে এল। একটা ফুটফুটে সুন্দর মেয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘আমি এই ঘরে কাপড় পাল্টাতে ঢুকলাম। আর চোরটা আমার পিছু পিছু এই ঘরে ঢুকল।’

‘ও কেন চোর হতে যাবে। ও তো আমাদের অভি। ঢাকায় চাকরি করে।’ খালু হেসে বললেন।
‘মানে?’ মেয়েটি চোখ গোল করে জানতে চাইল।
‘ও হচ্ছে নীলার খালাত ভাই। ওর সাথেই তোমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে।’

দাঁত দিয়ে জিব কেটে ছুটে পালাল মেয়েটি।
আর হতভম্ব অভি কী করবে বুঝতে না পেরে শেষপর্যন্ত মুখের ভেতরে ঢুকে যাওয়া রসগোল্লা কোঁৎ করে গিলে ফেলল!

প্রেম পর্ব

ঢোক গিলল অভি। সত্যিই সুন্দর মেয়েটি! মিথিলা ওর নাম। দারুণ! ঠিক ওর মনের মত। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল- খুব শিগগিরিই ওকে বউ হিসেবে ঘরে তোলার ব্যবস্থা করবে।

মিথিলা বসে ছিল একটা বেঞ্চে। অভি এদিক ওদিক তাকাল। কেউ ওদেরকে লক্ষ করছে না। সবাই বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত। ওর পাশে গিয়ে বসল অভি। জামা পাল্টে এসেছে ও।

‘হাই। আমি অভি।’
‘আমি মিথিলা।’
বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল দুজন। কী বলবে ভেবে পেল না।

‘আপনি কবে ঢাকায় ফিরবেন?’
‘পরশু। তবে যেতে ইচ্ছে করছে না।’   
‘কেন?’
‘মিথিলা’র জন্য যেতে ইচ্ছে করছে না।’
‘মিথিলাকে সাথে নিয়ে গেলেই হয়।’ তির্যক দৃষ্টি হানল মেয়েটি।
‘নিয়েই যাব। আজকেই আম্মুকে বলব মিথিলাকে আমার পছন্দ হয়েছে।’
এমন সময় আবার বিদ্যুৎ চলে গেল।
‘এই যা, আবার কারেন্ট চলে গেল।’ অন্ধকারে কে যেন বলল।
অভি সুযোগ নিল। মিথিলাকে ছুঁয়ে দেখার জন্য হাত বাড়িয়ে দিল।

হঠাৎ মনে হল, মুখ থাকতে হাত কেন! মিথিলাকে চুমু খাওয়ার জন্য ঠোঁট বাড়িয়ে দিল অভি। চুমুও খেল। সাথে সাথে ওর গালে চটাস্ শব্দে থাপ্পড় পড়ল। ঠিক তক্ষুনি বিদ্যুৎ ফিরে এল। অন্ধকারে ওর আর মিথিলার মাঝে মাঝবয়সী একজন মহিলা যে এসে বসেছে অভি সেটা বুঝতেই পারেনি। মিথিলা মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসছে। অভি ওর গালে হাত বোলাতে বোলাতে ভাবল ব্যাটা বিদ্যুৎ আর যাওয়া আসার সময় পেল না!

বিবাহ পর্ব

ক্লিন শেভ করা গালে হাত বোলাল অভি। সেদিনের ঘটনার পর ছ’মাস কেটে গেছে ওর জীবন থেকে। এই ছ’মাস ঢাকায় বসে ফোনে শুধু মিথিলার  আলাপ করে কাটিয়েছে অভি।আর ছটফট করেছে- মিথিলাকে ওর চাই-ই চাই। আজ সেই মিথিলা ওর চোখের সামনে বধুবেশে বসে আছে। আজ ওদের ফুলশয্যার রাত। মিথিলা ওর দিকে চেয়ে হাসল। অভিও হাসল। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল ওর দিকে। অমনি বিছানা থেকে পিছলে নেমে গেল মিথিলা। দু’চোখে দুষ্টমি ভরা হাসি। ভাবটা এমন-আমাকে ধর দেখি।

‘আচ্ছা। ভেবেছ ধরতে পারব না।’ হেসে ওর দিকে এগিয়ে গেল অভি। আবার পিছলে গেল মিথিলা।

রোখ চেপে গেল ওর। পরনের শেরওয়ানী খুলে রাখল অভি। মিথিলা আবার বিছানায় বসেছে। ভাবটা এমন ধরতে গেলেই সরে যাবে। মুচকি হেসে ওকে ধরার জন্য প্রস্তুত হল অভি। বিছানায় ঝাঁপ দিল ও মিথিলাকে ধরার জন্য আর সেই মুহূর্তেই কারেন্ট চলে গেল! অস্ফুটে আর্তনাদ করে উঠল অভি। অসহ্য যন্ত্রণায় মেঝেতে পড়ে গড়াগড়ি খেতে লাগল ও। মিথিলা অন্ধকারে কিছুই বুঝতে পারল না ।শুধু জানতে চাইল, ‘কী হয়েছে?’ প্রচন্ড ব্যথায় অভি কিছুই বলতে পারল না। এমনিতেও বলতে পারত না। খাটের চোখা কোনা একেবারে মোক্ষম জায়গায় লেগেছে! পুরুষদের এমন কিছু আঘাত আছে যা মেয়েদের বলা যায় না।

 

সন্তান পর্ব

অব্যক্ত যন্ত্রণায় একে অপরের দিকে তাকাল মিথিলা আর অভি। দু’বছর পরের কথা। ওরা দাঁড়িয়ে আছে এক অফিসের সামনে। একটু আগেই গাড়িতে করে এসেছে দু’জনে। দু’জনেরই মন প্রচন্ড খারাপ। অফিসের গেটের উপর বড় করে লেখা-এখানে বাচ্চা দত্তক দেয়া হয়। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অফিসটার গেট পার হল অভি। সাথে মিথিলা। একটা বাচ্চা দত্তক নিতে এসেছে ওরা!

তারিখ :  ২৫/১২/২০১৪

বিশ্বজিৎ দাস 
সহকারী অধ্যাপক, পদার্থ বিজ্ঞান
দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর।

এই বিভাগে আরো আছে

রম্য গল্প 7239759111458872728

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item