প্রযুক্তি কেড়ে নিচ্ছে শিল্পীর রং তুলি

বিডি.টুনসম্যাগ.কম ঢাকা : আধুনিক প্রযুক্তির কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পীর রং তুলির ছোঁয়া। যুগের সঙ্গে রুচির পরিবর্তন হওয়ায় ইতোমধ্...

বিডি.টুনসম্যাগ.কম

ঢাকা : আধুনিক প্রযুক্তির কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পীর রং তুলির ছোঁয়া। যুগের সঙ্গে রুচির পরিবর্তন হওয়ায় ইতোমধ্যে পেশা পরিবর্তন করেছেন এক সময়ের নামিদামী রং তুলির বাণিজ্যিক শিল্পীরা। স্বল্প খরচে ডিজিটাল মেশিনের পিভিসি, প্যানা দেখতে স্থায়ী ও সুন্দর হওয়ায় সবার আগ্রহ এখন এই ডিজিটালের দিকে। 

ডিজিটাল পিভিসি ও প্যানা ব্যবসায় পুঁজি বেশি লাগায় রং তুলির বাণিজ্যিক শিল্পীদের পক্ষে এ ব্যবসা করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। বর্তমান যুগের ডিজিটাল প্রিন্টের কারণে বাণিজ্যিক রং তুলির অনেক শিল্পীরা এখন বেকার হয়ে পড়েছে। অনেকেই রং তুলির শিল্পীর কাজ ছেড়ে দিয়ে এখন অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। 

রাজধানীর মহাখালীতে রেইনবো এডের স্বত্ত্বাধিকারীর কাছে 'কাপড়ে হাতে লেখা ব্যানার তৈরির কাজ করেন কিনা' জানতে চাইলে জানা যায়, বর্তমানে ডিজিটাল ব্যানারের (পিভিসি, প্যানা) চাহিদার তুলনায় হাতে লেখা ব্যানারের চাহিদা একেবারেই নেই, আর তাই এখন তারা হাতে লেখা ব্যানারের কাজ করেন না

মহাখালী এলাকার নবরূপ এডের স্বত্ত্বাধিকারী নবী। তিনি জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে আধুনিকতার ছোঁয়া মানুষের রুচি পরিবর্তন হওয়ায় সর্বত্রই পিভিসিপ্যানা'র বাজারে রং তুলির শিল্পীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ওইসব কর্মহীন বাণিজ্যিক রং তুলির শিল্পীদের মাঝে তিনিও ছিলেন একজন। অবশেষে গত এক বছর পূর্বে তিনি জমানো টাকা সাথে ব্যাংক ঋণ ও ধার করা টাকা যোগ করে অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রিন্ট মেশিন কিনেছেন। নবী আরো জানান, বিভিন্ন নির্বাচন, রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও ধর্মীয় উৎসবের সময় কাজ বেশি হলেও অন্যান্য সময় কাজ থাকে কম। 

মহাখালী হাজারীবাড়ি এলাকার এক সময়ে রং তুলির বাণিজ্যিক শিল্পী হিসেবে বেশ সুনাম অর্জনকারী ছিলেন শাওন। তিনি জানান, দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় তিনি বাণিজ্যিকভাবে রং তুলির শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। ডিজিটাল প্রিন্টের স্বল্প খরচের দিকে মানুষ এখন পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েছে। তার আর্থিক অবস্থা ভালো না, ফলে ডিজিটাল মেশিন কিনে ব্যবসা পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি বলে এ কাজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বর্তমান একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে অন্য কাজ করেন বলে জানান শাওন।

অন্যদিকে মহাখালী টিভিগেট এলাকার রং তুলির আরেক শিল্পী আমির আর্ট কোং- এর স্বত্ত্বাধিকারী আমির হোসেন জানান, তার বাবাও এ ব্যবসা করতেন। বর্তমানে হাতে লেখা কাজের চাহিদা খুব কম এলাকায় অন্যরা এ ব্যবসা ছেড়ে দিলেও তিনি কষ্ট হলেও কোনরকম টিকে আছেন। 

আমির আরো জানান, পিভিসি, প্যানাসহ সকল ডিজিটাল প্রিন্টের কাজের অর্ডার নেন তিনি। পরে তা অন্যত্র থেকে করিয়ে আনেন। সেখান থেকে তার কিছু কমিশন আসে। এভাবেই ব্যবসায় টিকে আছেন।

এই বিভাগে আরো আছে

সংবাদ 3243246945934754834

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item