না পাওয়ার কষ্ট + বেদনা

মহসিন মিজি বিডি.টুনসম্যাগ.কম পাত্রী না পাওয়া : ধরুন আপনি সদ্য বিদেশ থেকে আসলেন। আপনার বাবা-মা, ভাই-বোন সবই ঠিক আছে। কিন্তু তারপরও কী ...

মহসিন মিজি
বিডি.টুনসম্যাগ.কম

পাত্রী না পাওয়া : ধরুন আপনি সদ্য বিদেশ থেকে আসলেন। আপনার বাবা-মা, ভাই-বোন সবই ঠিক আছে। কিন্তু তারপরও কী যেন নেই নেই মনে হয়। অবশেষে আপনার অভিভাবক মহল আবিষ্কার করলেন যে, আপনার একটা লাল টুকটুক বউ দরকার। সবাই যখন একমত আপনার বিয়ের ব্যপারে, ঠিক তখনই শুরু হয়ে গেল গরু খোঁজা থুক্কু পাত্রী খোঁজা। পাত্রী খোঁজার দলে মাঝে মাঝে আপনাকেও যাত্রী হতে হচ্ছে। পোহাতে হচ্ছে নানান ঝক্কি-ঝামেলাও। কিন্তু এতগুলো লোক খুঁজেও পেল না মনের মতো পাত্রীর খোঁজ। এদিকে আপনার ছুটিও যাচ্ছে ফুরিয়ে। বিদেশ যাওয়ার আগে বিয়েটা করে কয়টা দিন খাওয়া-দাওয়া, শশুর বাড়ি, আত্মীয়ের বাড়ি বেড়িয়ে যেতে না পারলে তো আর ভালো লাগতেছে না? মহাসমারোহে চলছে তাই পাত্রীর খোঁজ। কিন্তু এর এই সমস্যা তো ওর ওই সমস্যা। কিছুতেই মনের মতো পাত্রী মিলছে না। জীবনের এই কষ্টকর অধ্যায়ের এক পর্যায়ে আপনার মনে হতে লাগলো, বিষাক্ত কেমিক্যালমুক্ত ফল খোঁজার চাইতেও কঠিন কাজ হলো পছন্দের পাত্রী খুঁজে পাওয়া!

চাকরি না পাওয়া : প্রায় সব বাপ-মা চান তার ছেলে বড় হয়ে ভালো একটা চাকরি করুক। কিন্তু সেই চাকরি তো আর এমনি এমনি হয়ে যাবে না! লাগবে মামু; লাগবে খালু! কিন্তু এই মামু-খালু যাদের নেই, সেই বাপ-মায়েরা ছেলেকে ভালো পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করার ব্যপারেই জোর দেন বেশি। কারণ, মামু-খালুর জোর যেহেতু নেই, তাই সার্টিফিকেটের জোরেই চাকরিটা পেতে হবে। সেই সার্টিফিকেট অর্জন করতে কতোই না কষ্টের পথ পাড়ি দিতে হয়। ইশকুল, কলেজ, ভার্সিটি, বন্ধু, প্রেম, আড্ডা, এসব কিছুর পর যখন সর্বোচ্চ সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে যান; তখন একটাই কাজ, চাকরি খোঁজা। অনলাইনে আবেদন, অফিসে অফিসে ঘুরে শখের কেনা জুতার সাড়ে বারোটা বাজানো, গাড়ি ভাড়া আর পে-অর্ডারের টাকা দিতে দিতে শেষে এমন অবস্থা হলো, আপনার মানিব্যাগের চিপাচাপা ঝাইড়া এক টাকার কয়েনও খুঁজে পাওয়া যায় না। এই অবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে বেকারত্ব। এই বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকাটা যে কী কষ্টের, তা সেই বেকার মানুষটা তার প্রেমিকা কিংবা বাপ-মা কাউকেই বোঝাইতে পারে না।


পদ না পাওয়া : মনে করুন আপনি একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। আপনি নিজকে নিয়েও এতোটা চিন্তা করেন না, যতোটা চিন্তা করেন দেশ নিয়ে আর দেশের মানুষকে নিয়ে। আপনার সামনে কেউ দেশ নিয়ে বাজে কথা বললে থাপড়াইয়া তার গালের দুই-একটা দাঁত ফেলে দেন। আর আপনার দলের বিরুদ্ধে কথা বললে তো তার আর রক্ষে নেই; তাকে তখন আলুভর্তা হতে হয় নাকি ফুটবল টেনিস বল জাতীয় কিছু হতে হয়ে সেটাই দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে! তো আপনার মতো জাঁদরেল কর্মীই তো দলে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ! কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটিই যদি দলের কমিটিতে ঠাঁই না পান, তখন কেমন লাগে? এর চাইতে কষ্টের কিছু হতে পারে? তখন মনের দুঃখে যদি মাল-টাল মানে মদ-গাঁজা জাতীয় কিছু পান করেন কিংবা নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন, মারামারি করে সেই নেতাদের হাত-পা ভেঙ্গে দেন- সেটা নিশ্চয় দোষের কিছু নয়...!

সিট না পাওয়া : কী পড়ালেখা আপনি করলেন, যাকে বলে কঠিন পড়ালেখা! দিন-রাত পড়তে পড়তে বাজিয়েছেন চোখের বারোটা। চশমা নিতে হয়েছে তাই হাই পাওয়ারের। শুধু কি নিজেকেই পুড়িয়েছেন? জালিয়েছেন আশপাশের মানুষগুলোকেও। অনেকেই ঘুমোতে পারেনি আপনার ঘ্যান ঘ্যান ঘ্যান ঘ্যান পড়ার শব্দে। আপনার বাবা-মা’র কথা তো বলাই বাহুল্য! আপনার জন্য কতো ধরণের খাবার-দাবার। প্রাইভেট, কোচিং-এর বেতন, ফি বাবদ কতো টাকা খরচ করলেন তারা! সেই আপনি যখন ডাবল এ প্লাস কিংবা সোনালী জিপিএ ফাইভ নিয়েও ভর্তি পরীক্ষা নামক বিরাট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটটি পেলেন না; তখনকার কষ্টের রূপ, রস কিংবা গন্ধ কি অন্য কারো মালুম হবে আপনার মতো?

এই বিভাগে আরো আছে

রম্য গল্প 3607015503320689068

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সঙ্গে থাকুন

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক

নেটয়ার্ক

  • বিজ্ঞাপন

     vm

    আঁকা-আঁকি আহ্ববান

    আপনার আঁকা, মজার মজার লেখা, ছবি আঁকার কলা-কৌশল, শিল্পীর জীবনী, প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অথবা প্রদর্শনীর সংবাদ টুনস ম্যাগে ছাপাতে চাইলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেইল করুন- bangla@toonsmag.com এই ঠিকানায়।

    সহায়তা করুন

    item